![]()
সদরপুর ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের নগরকান্দায় পূর্ববিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে শাহিন হোসাইন, তার মা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। আহতদের নেওয়া হয় নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য থেকে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোছা. রিনা আক্তারের দেওয়া লিখিত অভিযোগে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সালাম শেখ, বাবর আলী শেখ, সিদ্দিক শেখ, আবুল শেখ, ফাহিম ও ফয়সালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ফাহিম ও ফয়সালের বাবার নাম মৃত মো. জমির শেখ বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
রিনা আক্তারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় গালিগালাজ, মারধর ও গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে রিনা আক্তার, তার স্বামী শাহিন হোসাইনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে শাহিন হোসাইন ও তার মা-সহ কয়েকজন আহত হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য অন্যত্র আশ্রয় নেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। এরপর নগরকান্দা থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশি উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যের পাশাপাশি চিকিৎসাধীন আহতদের বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “জরুরি সেবা নম্বর ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এদিকে, হামলার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:০৬:০২ ১৬ বার পঠিত