গরুর ঘরেই বসবাস, অসহায় সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন সালথার ইউএনও

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » গরুর ঘরেই বসবাস, অসহায় সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন সালথার ইউএনও
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬



গরুর ঘরেই বসবাস, অসহায় সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন সালথার ইউএনও

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ঘরের এক পাশে সংসারের সামান্য কিছু জিনিসপত্র। অন্য পাশে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা। গরু রাখার জন্য তৈরি ছোট্ট একটি ঘরই চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব কোনো ঘর বা জমি নেই তাঁদের।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের বাসিন্দা সোহেলের পরিবারের এমনই জীবনযাপন। অভাব, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। তাঁদের দুর্দশার খবর পেয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তিনি পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ ও জীবিকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আটঘর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের গরু রাখার জন্য তৈরি একটি ছোট্ট ঘরেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন সোহেল। ঘরটিতে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের ন্যূনতম পরিবেশও নেই। তবু দিনের পর দিন সেখানেই চলছে তাঁদের সংসার।

সোহেল নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারে নেই স্থায়ী আয়ের উৎস। তাঁর স্ত্রীও দুই কিডনি নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
চিকিৎসার খরচ আর খাবারের সংকট—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে পরিবারটি।
অভাবের প্রভাব পড়েছে তাঁদের সন্তানদের জীবনেও। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে সংসারের টানাপোড়েনে স্কুল ছেড়ে একটি দোকানে কাজ করছে। আর সাত বছরের ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। সীমাহীন অভাবের মধ্যেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজিয়া বেগম বলেন, পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে তাঁরা নিরাপদে বসবাসের একটি ঠিকানা পাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পরিবারটির দুরবস্থা দেখছেন। সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পরিবারটির দুর্দশার খবর পেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে সোহেলের বাড়িতে যান ইউএনও দবির উদ্দিন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের জীবনযাপনের অবস্থা দেখেন।
ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই। আবার আয়েরও কোনো ব্যবস্থা নেই।’

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হবে।

গোয়ালঘরের ছোট্ট জায়গাটিই এত দিন ছিল সোহেলদের চারজনের পুরো পৃথিবী। এবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগের আশ্বাসে পরিবারটির সামনে নতুন করে একটি আশ্রয় ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:১০:২১   ২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


গরুর ঘরেই বসবাস, অসহায় সোহেলের পাশে দাঁড়ালেন সালথার ইউএনও
ফরিদপুরের সদরপুরে ইউপি সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ
নগরকান্দায় বাড়িতে হামলা-মারধরের অভিযোগ, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আহতদের উদ্ধার
ফরিদপুরে ১০ গ্রামের একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
মাদারগঞ্জে নিখোঁজ শিশু মরিয়মের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, প্রতিবেশী দম্পতি আটক
আলফাডাঙ্গায় ভাতিজার পর আড়াই মাস পর চাচাকে খুন
আজকের রাশিফল
ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
সাংবাদিকদের নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে - তথ্য প্রতিমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ