![]()
জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
আজ বুধবার নদীভাঙন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা শোনেন।
চরগোপালপুর ইউনিয়নে গত ৩-৪ দিনে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির ৫টি, নীলগাজি বাড়ির ৮টি, রাড়ি বাড়ির ৭টি, তালুকদার বাড়ির ৪টি, বেপারী বাড়ির ৩টি, ধোপাবাড়ির পানির বরজসহ ২টি, মাধবপুর বাড়ির ৪টি এবং গণি রাড়ি বাড়ির ৮টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের প্রায় ৩০টি দোকানও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি হুমকির মুখে রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, পার্শ্ববর্তী আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
মতবিনিময়কালে জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে তা কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারেনি। এ এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্লক স্থাপন করা হয়নি। তাই তারা নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ব্লক স্থাপনের ওপর জোর দেন।
এসময় বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, নদীভাঙন চলাকালীন সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীর পানি ও স্রোত কমে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জাল সরবরাহ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৩:০৭ ৬ বার পঠিত