ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

প্রথম পাতা » আইন আদালত » ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬



হাসান শেখ হত্যা মামলায় চার আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের কানাইপুরে হাসান শেখ হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের স্পেশাল জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস, চান্দু শেখ ও ফরিদা বেগম। তাদের মধ্যে শাহজাহান, ফারুক ও চান্দু রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের ইমাম উদ্দিন শেখের ছেলে হাসান শেখ ২০১৮ সালের ৮ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১১ মে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৩ মে বিকেলে কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের দক্ষিণ মাঠে জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা একটি আখক্ষেতের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পান। সেখানে গিয়ে তারা বস্তার মধ্যে একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে হাসানের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাকসহ বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে মরদেহটি হাসানের বলে শনাক্ত করেন। বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সে সময় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এজাহারে বলা হয়, ঘটনার প্রায় চার মাস আগে হাসানের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় হাসানের মাথায় আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিরোধের জেরে হাসানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ৮ মে রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর আখক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পূর্ববিরোধের বিষয়টি মামলার তদন্তে গুরুত্ব পায়।

হাসান হত্যার ঘটনায় তার বাবা ইমাম উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ আট বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাজা ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৯:৪৫   ৯৭ বার পঠিত  







আইন আদালত’র আরও খবর


হানিফসহ ৪ নেতার রায় সময়োপযোগী : চিফ প্রসিকিউটর
তুহিন হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আইভী
বগুড়ায় দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামির ৬০ বছরের কারাদণ্ড
নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে বিএনপিপন্থী দুই পক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতি
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান রিমান্ড শেষে কারাগারে
কলেজছাত্র নাঈম হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল
এমপি গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে
ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ