
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ভোগদখলীয় পুকুর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, পাড়ের মাটি খনন, গাছপালা কেটে ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) সরিষাবাড়ী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার।
অভিযুক্তরা হলেন— স্থানীয় ইউসুফ হোসেন (৪৭), মোবারক হোসেন (৬০) ও মোতালেব সরকার (৪৫)-সহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পরিবার পৈতৃক জমিতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছে। সম্প্রতি পুকুরটি স্থানীয় মুকুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেওয়া হয় এবং তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাছ ছাড়েন। এর পর থেকেই বিবাদীরা পুকুরটি দখলের পাঁয়তারা চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুকুর পাড়ে অনধিকার প্রবেশ করে বেড়া ভাঙচুর ও ফলজ-কাঠের গাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভুক্তভোগী ফাহিমা আক্তার জানান, গাছ ও পুকুর পাড় কাটতে বাধা দিলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে মারধরের চেষ্টা করে এবং “পুকুরে আসলে খুন করে লাশ গুম করা হবে” বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগীর স্বামী চাকরির প্রয়োজনে ঢাকায় থাকার সুযোগে বিবাদীরা প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউসুফ হোসেন বলেন, “এ জমিগুলো আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পদ। আবুল কালাম আজাদের নামে অতিরিক্ত জমি রয়েছে। তা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দিতে বলায় তিনি তালবাহানা করছেন। আমরা আমাদের জমিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, তাঁর পুকুর দখল করতে যাইনি।”
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৩:১৪ ২৭ বার পঠিত