তুলা উৎপাদন বাড়াতে অনাবাদি ও কম ফসলি জমি ব্যবহারের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

প্রথম পাতা » কৃষি ও বাণিজ্য » তুলা উৎপাদন বাড়াতে অনাবাদি ও কম ফসলি জমি ব্যবহারের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬



তুলা উৎপাদন বাড়াতে অনাবাদি ও কম ফসলি জমি ব্যবহারের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল ও অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। দেশের তুলার মান ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুলা উৎপাদন বাড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আজ বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। এজন্য যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বিনিয়োগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য হতে হবে কার্যকর ও লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী রঙিন তুলার সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে। পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের তুলার উৎপাদন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে নাকি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্য প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে—এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরো বলেন, তুলা চাষের জন্য খাদ্যশস্যের জমি ব্যবহার করা যাবে না। বরং চর, লবণাক্ত ও কম ফসলি জমিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তুলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে অর্থায়ন বড় বাধা হবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সলিম খান এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১১:০২   ১৫ বার পঠিত  




কৃষি ও বাণিজ্য’র আরও খবর


তুলা উৎপাদন বাড়াতে অনাবাদি ও কম ফসলি জমি ব্যবহারের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
তুরস্কের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে চান - বাণিজ্যমন্ত্রী
মাল্টার অস্বাভাবিক দামে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
শ্রমঘন শিল্পের বিকাশে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিল্পমন্ত্রী
হজ এজেন্সির ১০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে সৌদি আরব
মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ও সৌরবিদ্যুত খাতে ৭ হাজার ২৪৫ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেবে পিকেএসএফ
মালদ্বীপের মিয়ানজ কলেজকে ২১ হাজারের বেশি বীজ ও সামগ্রী উপহার দিল বাংলাদেশ
চীনের ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ
টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল বাণিজ্য প্রসারে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে বিকেএমইএ সভাপতির বৈঠক

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ