![]()
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নজরুল ইসলাম। নির্বাচিত হলে নিজেকে চেয়ারম্যান নয়, বরং ইউনিয়নবাসীর সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়ন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম।
তিনি যদুনন্দী গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মোল্লার ছোট ছেলে। তিনি যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যদুনন্দী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এবং নবকাম পল্লী কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য।
নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৯২ সালে বোয়ালমারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হন। পরে বাংলাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) যোগ দেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে আবারও সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময় রাজনৈতিক কারণে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন এবং চার থেকে পাঁচবার কারাবরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি প্রায় দুই বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়েছে তাঁকে।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আশাবাদী
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করেন।
নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় সমর্থন পেলে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
উন্নয়ন ও সেবার প্রতিশ্রুতি
নির্বাচিত হলে যদুনন্দী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান নজরুল ইসলাম। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সেবা সম্প্রসারণ, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
এ ছাড়া দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাঁর ভাষায়, “আমি যদুনন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে চাই না, হতে চাই জনগণের সেবক। মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
তিনি বিশ্বাস করেন, দলীয় সমর্থন ও জনগণের ভালোবাসা পেলে আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যদুনন্দী ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৯:৫৭ ৩২ বার পঠিত