
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের সঠিক মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শেয়ার্ড ভিশন ফর আ বেটার ওয়ার্ল্ড-অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি’, যার ভাবার্থ ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণ যে পণ্য টাকা খরচ করে ব্যবহার করবেন, সেটির ন্যূনতম সন্তুষ্টি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যে ভবন বা পরিবেশে মানুষ থাকবে কিংবা যে খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহার করবে, তার মান নিয়ে সংশয় থাকলে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতেই বিএসটিআই-এর জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সারাদেশে এর পরিধি বিস্তৃত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একজন নাগরিক যখন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বা এলপিজি গ্যাস নেবেন, তখন তিনি যেন নিশ্চিন্ত থাকেন যে পরিমাপ সঠিক আছে। বাজারে যে দুধ বা জিলাপি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও মান যেন নিশ্চিত হয়— যেমন জিলাপিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ বা অন্য কিছু নেই। একই সাথে যে ভবনে মানুষ বসবাস করছে, তার নির্মাণসামগ্রী যেন মানসম্মত হয়।
তিনি বলেন, এই ধরনের একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতেই বিএসটিআই-এর কাজের পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের মনে এই নিরাপত্তাবোধ ও সন্তুষ্টি এনে দেওয়া যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিএসটিআই-এর চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কমপ্লেক্সের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ ও ৬৩টি নতুন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ১০টি জেলায় নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন ও প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাব তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সাথে বিএসটিআই যেন ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন’ (পারস্পরিক স্বীকৃতি) চুক্তি করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। হালাল সার্টিফিকেশনের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক মান অর্জনে বিএসটিআই উদ্যোগ জোরদার করছে।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, সম্প্রতি সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসা থাকার একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিএসটিআই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে থাকা সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ এবং এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই।
খাদ্যের পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪১:০৬ ৭ বার পঠিত