
২০২৭ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা ইস্যুতে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি কাজ করছে। তিস্তার ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ফিরে এলেই এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
প্রকল্পের পরিকল্পনা নির্ভুল করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সিইজিআইএস, নদী কমিশনের কর্মকর্তা ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস এবং মালয়েশিয়া থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শ সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করা হবে। কোন পদ্ধতিতে কাজ করলে এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন, তা নিশ্চিত করতে ডিপিপি তৈরিতে আরও ৮-৯ মাস সময় লাগবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর—এই পাঁচ জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে এবং তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খালের গুরুত্ব তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আসবেন এবং তাঁকে দিয়েই দৃষ্টিনন্দন খালটির উদ্বোধন করানো হবে। এর ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন। খালের দুই ধারে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা নতুন লালমনিরহাটের দ্বার উন্মোচন করবে।
পরিদর্শনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩১:১৩ ৮ বার পঠিত #তিস্তা নদী\ #তিস্তা মহাপরিকল্পনা #ফরহাদ হোসেন আজাদ #লালমনিরহাট