
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় টেন্ডার ছাড়াই টিটা পানাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো আধাপাকা ঘরের টিন, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনামুল হকের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এসব নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নছিমনগাড়িতে করে বিদ্যালয় থেকে ইট নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুরোনো আধাপাকা ঘর ভেঙে সেখানকার টিন, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী টেন্ডার বা প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইট ক্রেতা হরে কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘তিন দিন ধরে এই ঘরের ইট তোলার কাজ করছি। প্রধান শিক্ষক ইনামুল হকের কাছ থেকে ৫ হাজার ইট ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনেছি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক। পরে তিনি জানান, টেন্ডার ছাড়াই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মালামাল ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, টেন্ডার ছাড়াই সরকারি সম্পদ বিক্রি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়মবহির্ভূত কাজ করেছেন।
তাঁরা আরও বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। তাঁদের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হোক এবং সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০১:৫৫ ১০ বার পঠিত