বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সদরপুরে মাদ্রাসার ছাত্রকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সদরপুরে মাদ্রাসার ছাত্রকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬



সদরপুরে মাদ্রাসার ছাত্রকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

সদরপুর উপজেলা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী আবাসিক শিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাররশি গ্রামে আজিবুন্নেসা আন্তর্জাতিক হিজবুল কুরআন মাদ্রাসায়’ এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

আহত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ (১০) উপজেলার দক্ষিণ আটরশি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিমের ভাই মুরসালিন এবং মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী রাজিব, রায়হান ও সুজন মিলে আব্দুল্লাহকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করে। মুরসালিনকে নাম ধরে ডাকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের সময় শিশুটির হাত, পা, বুক, পিঠ, নাক ও মুখে আঘাত করা হয়। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে চুপ থাকতে বলা হয়। ভয়ে শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, আহত অবস্থায় শিশুটিকে দেখার পর মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিম তাকে শুধু একটি নাপা ওষুধ খাইয়ে জানাজার নামাজে চলে যান। পরে জানাজা শেষে ফিরে শিশুটির শরীরে জ্বর দেখতে পেয়ে তার অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিশুটির মা ও চাচা মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
শিশুটির মা লিজা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে কক্ষে আটকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঘটনার পর থেকে মামলা না করার জন্য আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে মাদ্রাসার মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসিক কোমলমতি শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আইনগত ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫০:৩২   ১৮ বার পঠিত