
পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আড়িয়াল বিলকে হয় একটা জলাভূমি কেন্দ্রিক সংরক্ষিত এলাকা অথবা বিশেষ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, আড়িয়াল বিলকে আমাদেরকে একটা জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
উপদেষ্টা আজ ঢাকায় পানি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান এবং পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্পের ফলাফলের ওপর অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রটেকশন স্ট্যাটাস বা সংরক্ষিত মর্যাদা আড়িয়াল বিলকে দিতে হবে, তা না দেওয়া পর্যন্ত এই বিলের ধ্বংসযজ্ঞটা আমরা কমাতে পারবো না। বেলাই বিল এবং চলন বিলকেও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, নদ-নদীকে নষ্ট করে আমরা উন্নয়ন করতে পারি না। দরকার হলে আমরা অনেক দূর ঘুরে যাব কিন্তু খাল বা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে যাওয়ার যে টেন্ডেন্সি বা প্রবণতা এ জায়গা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।
রিজওয়ানা হাসান মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসককে আড়িয়াল বিলের ভিতরে মৎস্য চাষের জন্য খালের ওপর বেআইনিভাবে নির্মিত অপরিকল্পিত মাটির বাঁধগুলো তালিকা করে অবিলম্বে অপসারণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যে বাঁধগুলো লোকজন চলাচলের জন্য করেছে, ওখানে বাঁধগুলো কেটে দিয়ে খালের ওপর বাঁশের পথ করে দিতে হবে। উপদেষ্টা আড়িয়াল বিলে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত ৮টা বন্ধ খাল যেগুলো ক্লোজার করে রাখা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিতভাবে কাজ করা নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আড়িয়ল বিলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় গরিব কৃষক যেন উপকৃত হয় সে বিষয়টি আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
সম্মানিত অতিথি শিল্প এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, আড়িয়াল বিল এলাকায় পানির মাধ্যমে নদীমাতৃক যোগাযোগ কিভাবে গড়ে তোলা যায় এ বিষয়ে আমাদেরকে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল হাসান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান।
দিনব্যাপী কর্মশালায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক-সহ শ্রীনগর, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও আড়িয়াল বিল সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৪:৩২ ১১৭ বার পঠিত