আজ ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » আজ ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস
সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫



আজ ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস

আজ ৩০ জুন, ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। এই দিনটি সাঁওতাল হুল বলেও পরিচিত। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সাঁওতাল বিদ্রোহীদের সেদিনের আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিকামী মানুষের কাছে আজও তা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

সাঁওতাল কৃষকদের ওপর সরকার, মহাজন ও ব্যাপারীদের নির্মম নির্যাতন এবং শোষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পেতেই সংঘটিত হয় এই বিদ্রোহ। জঙ্গল কেটে আদিবাসীরা যে আবাদি জমি তৈরি করে তার উপর নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতেই হয়েছিল এই সংগ্রাম।

এই বিদ্রোহের মূল দাবি ছিল, জমির অধিকার, জমি থেকে উৎপন্ন ফসল ভাগ করার অধিকার, ঠকবাজ মহাজন, ব্যবসায়ী ও বিদেশি শোষণ ও শাসন থেকে মুক্তি। সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব-ঝালমনি ও ফুলমনির নেতৃত্বে বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ ভগনাডিহি থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য কোম্পানি সরকারও চুপ করে বসে থাকেনি। প্রথমে বিদ্রোহীদের কাছে পরাজিত হলেও পরবর্তীতে বিদ্রোহ দমনের নামে সরকারি সৈন্যদল ব্যাপক গণহত্যা চালায় এবং সাঁওতাল গ্রামগুলা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এক পর্যায়ে জেনারেল লয়েড ও জেনারেল বার্ডের নেতৃত্বে ১ হাজার ৪০০ সৈন্য সাঁওতাল এলাকা ঘেরাও করে ১০ হাজার বিদ্রোহীসহ ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করে। ১৮৫৬ সালের ২৭ জানুয়ারী ভাগলপুর হিলরেঞ্জার্স বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধে বিদ্রোহের নেতা চাঁদ ও ভৈরব মৃত্যুবরণ করেন। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে ইংরেজ সৈন্যের গুলিতে সিধু নিহত হন এবং পরের সপ্তাহে কানুকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।

ব্যর্থ হলেও এই বিদ্রোহের পথ ধরে এগিয়ে আসে সিপাহি বিদ্রোহ। তেভাগা আন্দোলনের মতো আরও অনেক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। বিদ্রোহের সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের মহেশপুরে নির্মিত হয় দুই মহানায়ক ও দুই ভাই সিধু-কানুর ভাস্কর্য। কান্তনগরের তেভাগা চত্বরেও তাদের প্রতিকৃতি রয়েছে।

এমন শত সহস্র কালজয়ী বীরের রক্তে দিনাজপুরের মাটি রঞ্জিত হয়। এই মাটিই তাদের হাজার বছরের পরিচয়, গৌরব ও শেষ আশ্রয়। এই দিনটি সাঁওতাল বিদ্রোহের সকল সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। ইতিহাসের পাতায় নয় বরং হৃদয়ে তাদের সাহসিকতা ধারণ করা উচিত।

১০ হাজার সাঁওতাল কৃষক সেদিন শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েছিলেন। ভগনা ডিহি গ্রামের ওই সভার শপথ ছিল বিদ্রোহের শপথ। বিদ্রোহের মূল দাবি ছিল ‘জমি চাই, মুক্তি চাই’। জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ সরকারের শোষণ ও জুলুম থেকে মুক্ত হয়ে শান্তির সঙ্গে উৎপাদনের কাজ ও জীবন ধারণ করার সংকল্প নিয়ে সাঁওতাল কৃষকেরা বিদ্রোহের পথে পা বাড়ান।
বিজ্ঞাপন

তাদের এ বিদ্রোহের সঙ্গে যোগ দেন এলাকার শোষিত, বঞ্চিত বাঙালি ও বিহারি হিন্দু-মুসলমান গরিব কৃষক এবং কারিগরেরা। সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়ে উঠেছিল সব সম্প্রদায়ের গরিব জনসাধারণের মুক্তিযুদ্ধ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৯:০১   ১৭৩ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার ‘বৈধ প্রেসিডেন্ট’, বিস্ফোরক মন্তব্য ডেলসি রদ্রিগেজের
পাকিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের চমক
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করেও লাভ হয়নি, জয় জনগণেরই: মির্জা আব্বাস
নির্বাচনে বিজয়ী হলেন ৭ নারী প্রার্থী
রবিবারের মধ্যেই সরকার গঠনের আশাবাদ মির্জা ফখরুলের
আজই প্রকাশ করা হবে ২৯৭ আসনের গেজেট
আমার দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা থাকবে: দীপেন দেওয়ান
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ৪টিতে, এনসিপি ১টি
এগিয়ে গিয়েও ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ