![]()
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচেই হারের মুখ দেখলো বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতলেও পরের তিন ম্যাচেই হারে টাইগ্রেসরা। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের পর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আশা জাগিয়ে হারলো বাংলাদেশ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল একটু বেশিই মন্থর গতিতে। ২৫তম ওভারে যখন ফারজানা হক আউট হন, তখন দলের স্কোর ২ উইকেটে ৭৩! ইনিংসের প্রথম ১৫৪ বলের মধ্যে ১১০ বলই ডট! এমন বিরক্তিকর ব্যাটিংয়ের পরও টাইগ্রেসরা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং স্কোড় গড়তে সমর্থ হলো স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। বাংলাদেশের জার্সিতে স্বর্ণার ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন ওপেনার তাজিম ব্রিটস। এরপর অধিনায়ক লরা উলভার্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অ্যানেকে বোশ। রান আউটে কাটা পড়ে লরা সাজঘরে ফিরলে ভাঙে তাদের ৫৫ রানের জুটি।
এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অ্যানেকে বোশ। ৩৫ বলে ২৮ রান করা এই ব্যাটারকে সোবহানা মোস্তারির ক্যাচ বানান রিতু মনি। অ্যানেরি ডার্কসেন আউট হন ১১ বলে ২ রান করে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার সিনালো জাফতা ফেরেন ফাহিমা খাতুনের বলে বোল্ড হয়ে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৪ রান। আর তাতেই ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে প্রোটিয়ারা।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মারিজান ক্যাপ ও কোল ট্রাইয়ন ১০৯ বলে ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। ৭১ বলে ৫৬ রান করা মারিজান ক্যাপকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদা আক্তার। এরপর রানআউটে কাটা পড়েন ৬৯ বলে ৬২ রান করা কোল ট্রাইয়ন।
এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি নাদিন দে ক্লার্ক ও মাসাবাতা ক্লাস। দুজনে মিলে অবিচ্ছেদ ৩৭ রানের জুটি রানের জুটি গড়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন ও রিতু মনি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল খুবই মন্থরগতির। উইকেট বাঁচিয়ে খেললেও হাত খুলতে পারেনি ফারজানা-রুবিয়া হায়দারের উদ্বোধনী জুটি। ১১৭তম ওভারের প্রথম বলে রুবিয়া আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫৩ রান। ট্রায়নের বলে আউট হওয়ার আগে ৫২ বলে ২ চারে ২৫ রান করেন রুবিয়া।
ওয়ান ডাউনে নামা শারমিনের সঙ্গে ২০ রানের আরেকটি জুটি গড়েন ফারজানা। তবে নিজের হতশ্রী স্ট্রাইক রেট আর বাড়াতে পারেননি তিনি। ২৫তম ওভারের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে একাই অর্ধেকের বেশি বল খেলেছেন। ৭৬ বলে ৩ চারে মাত্র ৩০ রান করে এমলাবার বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন। এই ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট মাত্র ৩৯.৪৭!
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি আর শারমিন মিলে দলের রানরেটটা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ৭৭ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪১তম ওভারের প্রথম বলে জ্যোতি যখন আউট হন দলের সংগ্রহ ১৫০ রান। ৪২ বলে ৫ চারে ৩২ রান করেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। অর্ধশতক পূর্ণ করেই আউট হয়েছে শারমিন। ৪৩তম ওভারের তৃতীয় বলে রানআউট হওয়ার আগে ৭৭ বলে ৬ চারে ৫০ রান করেন শারমিন।
বাকি গল্পটা শুধুই স্বর্ণার, যেখানে তার সঙ্গী হিসেবে শেষের দিকে ছিলেন রীতু মনি। শেষ ১০ ওভারে ৮২ রান তোলে বাংলাদেশ, যার বড় কৃতিত্ব স্বর্ণার।
ঝড় তোলা স্বর্ণা ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের দেখা পান। মাত্র ৩৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি, যা নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ দিকে নেমে ৮ বলে ১৯ রানের দারুণ ক্যামিও খেলেন রীতু। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার। প্রোটিয়াদের পক্ষে এমলাবা ২টি, ট্রায়ন ও ডি ক্লার্ক ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৫:৩২ ১১৬ বার পঠিত