![]()
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, সাংবাদিকদের কোনো দলবাজি করার প্রয়োজন নেই, প্রশাসনের তোষামোদ করারও দরকার নেই। ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। সাংবাদিকতার একমাত্র পক্ষ হবে সত্য ও জনগণ। প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ধোবাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ভয়ভীতি ও তোষামোদ দিয়ে কখনোই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। যে সাংবাদিক সত্য লিখবেন এবং জনগণের পক্ষে দাঁড়াবেন, তার পাশে রাষ্ট্রকেই দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সেই রাষ্ট্র গড়তে চায়।’
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করা হবে। সত্য লেখার কারণে কোনো সাংবাদিক যেন মামলা, হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার না হন, সে জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হবে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে রক্ষা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কথার মানদণ্ড ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে সরকারের সমালোচনা করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। সরকারের ভুল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়। বরং সেটিই গণতন্ত্রের শক্তি। যেখানে সাংবাদিকদের কলম থেমে যায়, সেখানেই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয়।’
প্রিন্স বলেন, ‘এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকটসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদপত্রে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, মাদক, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকা হতে হবে আপসহীন।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা কারও রাখাল নয়, তারা সত্যের পাহারাদার। প্রশাসন বা ক্ষমতাবানদের ভয় পেয়ে নয়, জনগণের শক্তি নিয়েই সাংবাদিকতা চলবে।’
ইমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, ‘বিএনপি মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া তার শাসনামলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই গণতান্ত্রিক ধারাই ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ আজ ক্ষতবিক্ষত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল এবং গণতন্ত্র ধ্বংসপ্রায়। এই অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনতে, সামাজিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং একটি নতুন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি দক্ষ, যোগ্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার। সেই দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা একমাত্র বিএনপির পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে।’
আলোচনা সভায় তিনি আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধোবাউড়া প্রেস ক্লাবের ভবন, আধুনিক মিলনায়তন, সাংবাদিক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ড্রোন, ক্যামেরা, আসবাবপত্রসহ আধুনিক ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
বিএনপির এই নেতা আরও জানান, তার দল ক্ষমতায় এলে ধোবাউড়া পৌরসভা, কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য গুদাম, মিল কল কারখানা স্থাপন, বেকারত্বের অবসান, কর্মসংস্থান, বাইপাস সড়ক, ইউনিয়নে বেসরকারি হাসপাতাল ও বিনামূল্যে চিকিৎসা, দুর্গম এলাকাসহ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক, সেতু নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও সড়ক বা স্থাপনার নামকরণ, বন্দর স্থাপন, আধুনিক ও বহুতল বাজার, মহিলা মার্কেট, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী জাদুঘর, পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক, তাঁত শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: ৫ মিনিট দেরি, মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে অঝোরে কাঁদলেন প্রার্থী
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ধোবাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মতিলাল সরকার, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল হক, সংবাদিক শাহিনুজ্জামান প্রিন্স, সামসুল হক মৃধা, কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম আমির, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল হক ফকির, দপ্তর সম্পাদক উমর আলী, বার্তা সম্পাদক আনিসুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল মতিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস, মাহবুবুল আলম বাবুল, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবুল কাশেম ডলার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ,উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক নয়ন মণ্ডল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান সুমন ,উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক, যুবদল নেতা ফারুক হোসাইন, উপজেলা তাতী দলের সদস্য সচিব হাসান শাহ , উপজেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিনসহ রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৫:৫৭ ৩০ বার পঠিত