
চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ভেনেজুয়েলাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বলেছেন, আরো তেল উত্তোলনের অনুমতি পেতে আগে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের বের করে দিতে হবে।
সূত্রের বরাতে এবিসি নিউজ আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদনে একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হতে এবং ভারী ‘ক্রুড ওয়েল’ বিক্রির ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দিতে চাপ দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আছে। ওই হামলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ডেলসি রোদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি ট্রাম্প নিজেই নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বকে জানিয়েছে আরো তেল তুলতে হলে ট্রাম্পের শর্ত মানতে হবে।
সূত্রগুলো বলেছে, ‘প্রথমত, দেশটিকে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবাকে নিজেদের অঞ্চল থেকে বের করে দিতে হবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদনে একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হতে হবে এবং ভারী ক্রুড তেল বিক্রির ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
এদিকে চীন দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক গোপন ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ভেনেজুয়েলার থাকা তেলের মজুদ পূর্ণ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে চাপ দিতে পারবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অবরোধে উৎপাদিত তেল রাখার জায়গা না থাকায় ভেনেজুয়েলা গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেল কূপ বন্ধ করতে শুরু করে। কূপ বন্ধ হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হবে এবং রোদ্রিগেজের ক্ষমতায় টিকে থাকাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মার্কিন ধারণা অনুযায়ী, তেল বিক্রি না করতে পারলে কারাকাস মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়বে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার নিশ্চিত করেন, আমেরিকার পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ। এতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না।
তিনি বলেন, সরকার তেল নিয়ন্ত্রণ করতে জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের দখল নেবে, এবং সেগুলোর একটিও হাভানায় যাবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘উন্মুক্ত বাজারে যতক্ষণ না সেগুলো চলাচল শুরু করছে, ততক্ষণ আর কোনো ট্যাঙ্কার ভরা যাবে না, কারণ সবই পুরোপুরি ভর্তি।’
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে, যা বাজারদরে বিক্রি করা হবে।
ট্রাম্প আরো বলেন, তেল বিক্রির টাকা তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন, এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে ।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৯:১৮ ১৪ বার পঠিত