
ভোলার লালমোহনে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আবু বকর সিদ্দিককে (৫১) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘাতক চক্রটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চরফ্যাশন পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড থেকে লালমোহনের গজারিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে আবু বকর সিদ্দিকের অটোরিকশাটি ভাড়া করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকার একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে আসামিরা চালকের বুকে ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যু হয়। পরে ঘাতকরা নীল রঙের অটোরিকশাটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে সুলতান আল বাদী হয়ে গত ১ জানুয়ারি তারিখে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে ক্লুলেস থাকলেও জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। গত ৬ জানুয়ারি মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগী মোহাম্মদ রাজা (৩২) ও কাজী তারেক (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতাররা পেশাদার ও সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। বিশেষ করে গ্রেফতার মোহাম্মদ রাজার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার ও মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৭:২৩ ১২ বার পঠিত