
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা নির্ধারণে Alluvion (পয়স্তি) ও Diluvian (সিকস্তি) line একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। নদীভাঙন, চর জাগা ও পলি সঞ্চয়ের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে জমির আয়তন ও অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। এসব পরিবর্তনের আইনগত স্বীকৃতি নির্ধারণে এই দুই ধারণা মুখ্য ভূমিকা রাখে। এজন্য সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নিয়মিতভাবে সিকস্তি ও পয়স্তি (এডি) লাইন টানা প্রয়োজন।
আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘সার্ভেয়ারগণ কর্তৃক এডি লাইন সৃজন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের মডিউল চূড়ান্তকরণ’ সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশের নদীমাতৃক বাস্তবতায় Alluvion–Diluvian Line (AD Line) সৃজন প্রশিক্ষণ শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি ভূমি ন্যায়বিচার, রাজস্ব সুরক্ষা ও সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণ ছাড়া ভূমি প্রশাসনে টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কল্পনা করা যায় না। এসব রেখা সঠিকভাবে নির্ধারিত না হলে ভূমি বিরোধ, জাল দলিল, প্রভাবশালীদের দখল ও দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
সালেহ আহমেদ বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রবল এলাকায় সার্ভেয়ারদের জন্য দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। এ এলাকার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় Alluvion ও Diluvian line-এর বৈজ্ঞানিক, আইনসম্মত ও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ সময়ের দাবি। আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ, জিআইএস ম্যাপিং এবং হালনাগাদ জরিপের মাধ্যমে এ রেখাগুলো নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভূমি বিরোধ কমবে, ন্যায্য মালিকানা নিশ্চিত হবে এবং নদী তীরবর্তী মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
সেমিনারে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.মো: মাহমুদ হাসান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সায়মা ইউনুসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১২:৫৫ ১৪ বার পঠিত