
ইউক্রেনের দুই বৃহত্তম শহর কিয়েভ ও খারকিভে একযোগে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে হওয়া এ হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় গণমাধ্যম।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, রাজধানী কিয়েভে অল্প সময়ের মধ্যেই খুব তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হামলার সময় শহরজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেন পরিস্থিতি নজরদারি করা টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তাদের ভাষায়, চলতি বছরে এটি ইউক্রেনের ওপর চালানো সবচেয়ে টানা ও সংঘবদ্ধ হামলা।
হামলার পুরো চিত্র নিয়ে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। অন্যদিকে রাশিয়াও এই হামলা নিয়ে কিছু জানায়নি।
রাশিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা খারকিভ শহরটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই নিয়মিত হামলার মুখে পড়ছে। অঞ্চলটির গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, শহরের উপকণ্ঠে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে দেশটির বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার বড় লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো। এর ফলে শীতের সময় লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছে।
একই সঙ্গে লাগাতার হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়ছে চাপ। নতুন করে চালানো এই তীব্র হামলা আবারও ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সামনে নিয়ে এলো।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২০:২৭ ৭ বার পঠিত