
গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছেড়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর মধ্যেও চলছে ইসরাইলি হামলা। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
শনিবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও গাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাসেম নাঈম বলেন, হামাস গাজার সরকারি প্রশাসন থেকে পুরোপুরি সরে যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদনের পর যুদ্ধবিরতি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে।
কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন বলে অভিযোগ করেন এই হামাস নেতা। নাঈমের দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় শতাধিক হতাহত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়।
এদিকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় থেমে নেই ইসরাইলি হামলা। স্থানীয় সময় শনিবার গাজার বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। এতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। নুসেইরাত ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আবাসিক ভবনে হামলা হয়।
রাফাহ, আল-মাওয়াসি ও গাজা সিটির আসকুলা এলাকায়ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো সতর্কতা ছাড়াই চালানো হয় এসব হামলা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজা থেকে রকেট নিক্ষেপের ব্যর্থ চেষ্টার পর এসব হামলা চালানো হয়।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তীব্র শীত ও ত্রাণ প্রবেশে বাধার কারণে সাত দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে দেইর আল-বালাহ এলাকায়। স্বাস্থ্য ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, প্রয়োজনীয় তাঁবু ও নির্মাণ সামগ্রী ঢুকতে না দেয়ায় মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে বাস করছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৫:৫৬ ১১ বার পঠিত