
ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান স্বতন্ত্র প্রার্থীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনি তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করা মানে সরাসরি তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করা। এ জিনিসটা সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে বুঝে গিয়েছে। তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি তো ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নেই নাই। ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং আপনি যদি প্রকৃতপক্ষে জাতীয়তাবাদীর রাজনীতি করেন আর তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফয়লা রোডের বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনের মুরারীদহ গ্রামের নবাই বিশ্বাসের ছেলে।
রাশেদ খান আরও বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসন জাতীয়তাবাদের উর্বর ভূমি। এই ভূমিতে বিএনপির বিজয় হবে, ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় হবে- ষড়যন্ত্র করে চক্রান্ত করে এ বিজয় কোনোভাবেই আটকানো যাবে না। সামান্য ভুলের জন্য আমাদের কোনো ভাইয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হোক আমি সেটি চাই না। আমি চাই না আমাদের কোনো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গৃহীত হোক। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মিলে মিশে কাজ করতে। আমার কারোর প্রতি বিন্দুমাত্র রাগ ক্ষোভ অভিমান নেই।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রতীককে গুরুত্ব দিবেন নাকি আপনারা ব্যক্তিকে গুরুত্ব দিবেন সেটি আপনাদের ভাবতে হবে। আপনাদের ভোটে, আমাদের ভোটে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। যদি ১৫০টি আসন পায় আর যদি একটি আসনের কারণে সেই ধরনের ঘটনা না ঘটে সুতরাং স্বতন্ত্রের নামে যারা এ কথাগুলো বলেন তাদের ভাবার অনুরোধ করছি। একটি আসনের কারণে যদি একটি সংকট, সামনে বিএনপির জন্য আসে, সেটি কী আমাদের জন্য ভালো হবে? সেজন্য আমাদের সবাইকে এক হয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য, তারেক রহমানকে বিজয় করার জন্য, বিএনপিকে বিজয় করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। স্বতন্ত্র ভোট করে বিএনপির ক্ষতি ছাড়া এক বিন্দু উপকার করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ঝিনাইদহ-৪ আসনে নয় সারা বাংলাদেশে যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে যারা সংক্ষুব্ধ, যাদের মধ্যে অভিযোগ অনুযোগ, রাগ-ক্ষোভ রয়েছে আমি সবার প্রতি উদাত্ত আহবান রাখতে চাই- আপনারা এরকম কোনো কর্মযজ্ঞ করবেন না যাতে করে বিএনপির ক্ষতি হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজের জেল খাটা ও অবদানের কথাসহ সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীর ওপর জুলুম নির্যাতন ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে পরিণত করে ফ্যাসিবাদ জুলুমবাজদের পতন হয়েছে আর জনগণের বিজয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
মতবিনিময়কালে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় অবস্থান করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন।
এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক পৌর বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা লুৎফর রহমান লেন্টুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৫:২২ ৪ বার পঠিত