
নীরজ পাণ্ডে নির্মিত নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘Taskaree: The Smuggler’s Web’ তাসকারি, মুম্বাই বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগের ভেতরের জটিল ও রহস্যময় জগৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রায় দুই হাজার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিদিন লাখো যাত্রী আসা যাওয়া করেন। সেই বিশাল ব্যবস্থার আড়ালেই সক্রিয় একটি শক্তিশালী চোরাচালান চক্র এবং তাদের মোকাবিলায় নিয়োজিত সৎ ও সাহসী কিছু কর্মকর্তার টানটান লড়াই তুলে ধরা হয়েছে সিরিজটিতে। এবছরে মুক্তি পাওয়া সির৯ইজগুলোপ্র মধ্যে আলোচনায় রয়েছে এটি।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুপারিনটেনডেন্ট অর্জুন মীনা (ইমরান হাশমি), যিনি একসময় বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি বিশেষ দল। তাদের লক্ষ্য—চোরাচালান সম্রাট বড়া চৌধুরী (শরদ কেলকর) পরিচালিত সুসংগঠিত অপরাধচক্রকে ভেঙে দেওয়া। এই পুরো অভিযানের তদারকিতে থাকেন অর্থমন্ত্রীর নিযুক্ত প্রতিনিধি প্রকাশ কুমার (অনুরাগ সিনহা), যাকে সবাই একজন সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা হিসেবেই জানে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই কুমার দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে সক্রিয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে বদলি করেন।
এরপর তিনি পুনরায় কাজে ফেরান তিনজন বরখাস্ত হওয়া কিন্তু বিশ্বস্ত অফিসারকে—অর্জুন মীনা, রবি গুজ্জর (নন্দীশ সান্ধু) এবং মিতালী শর্মা (অমৃতা খানভিলকর)। মীনা দলের কৌশলবিদ, রবি সাহসী ও নীতিবান ফিল্ড অফিসার, আর মিতালী দক্ষতা দেখান উচ্চমূল্যের পণ্য শনাক্ত ও দ্রুত কাস্টমস তল্লাশিতে।
দলটি শুরুতে ছোট আকারে অবৈধ চালান আটকাতে থাকে। যাত্রী, লাগেজ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা চোরাচালান চক্রের কাজের ধরন বোঝার চেষ্টা করে।
ভেতরের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও অচেনা শক্তির কারণে প্রতিটি অভিযানই হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। নিখুঁত সময়জ্ঞান ও কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে মীনা পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
রবির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ছিল তার তথ্যসূত্র প্রিয়া (জোয়া আফরোজ)। সে বড়া চৌধুরীর সহযোগী আন্না শেঠের দলের ভেতরে গোপনে কাজ করছিল। প্রিয়া নিয়মিতভাবে চালানের সময়, রাহুলসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গতিবিধি এবং শেঠের ডানহাত সুরেশের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করত।
এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই দলটি সফলভাবে চোরাচালানকারীদের চাল আগেভাগে বুঝে নিতে পারত।
দলটি যখন একের পর এক সাফল্য পেতে শুরু করে, তখন বড়া চৌধুরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘুষের প্রস্তাব দেয় এবং কর্মকর্তাদের পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করে। উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্ত আসে, যখন চৌধুরীর নির্দেশে রবি গুজ্জরকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা মীনাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং তাকে আরও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
ঠিক তখনই প্রকাশ পায় ভয়ংকর সত্য—যাকে সবাই সৎ কর্মকর্তা মনে করেছিল, সেই প্রকাশ কুমার আসলে ব্যাংককে বড়া চৌধুরীর সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছিল। অথচ পুরো সিরিজে প্রকাশকেই প্রধান হিরো মনে হবে। তবে এই ঘটনা থেকে সিরিজের বাঁক নেবে। টুইস্টের পর টুইস্ট। প্রথমে একটু বোরিং লাগলেও দ্বিতীয় এপিসোড থেকে এই সিরিজের সামনে থেকে সরতে মন চাইবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৪:২৬ ৪ বার পঠিত