
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন পুনরায় চালু এবং আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ‘সরিষাবাড়ী রেলওয়ে সংস্কার কমিটি’র ব্যানারে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে এই মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিকালীন আন্দোলনকারীরা আন্তঃনগর ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে রাখেন। এতে স্টেশনে উপস্থিত সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একাত্মতা ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান রেল পরিষেবার নানা ত্রুটি তুলে ধরেন বলেন, বর্তমানে যমুনা, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেস—এই তিনটি ট্রেন সরিষাবাড়ী-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। তবে অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেসের সময়ের ব্যবধান খুব কম হওয়ায় যাত্রী স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে, যা রেলওয়ের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা থেকে ট্রেনগুলো তারাকান্দিতে পৌঁছাতে বিকেল হলেও ফেরার পথে গভীর রাত হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যে নেমে যাত্রীরা ছিনতাইসহ নানা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
আন্দোলনকারীরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। ১. অগ্নিবীণা বা জামালপুর এক্সপ্রেসের যেকোনো একটি ট্রেনের সময় পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে রাতে এবং জামালপুর থেকে ভোরে ছাড়ার ব্যবস্থা করা।
২. জামালপুর এক্সপ্রেসকে আগের রুটে ফিরিয়ে যমুনা সেতু (পূর্ব) দিয়ে চলাচল নিশ্চিত করা।
৩. বন্ধ থাকা ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করে সেটিকে যমুনা সেতু (পশ্চিম) স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত করা, যাতে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ সহজতর হয়।
“যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং রেলের লোকসান ঠেকাতে এই দাবিগুলো পূরণ করা এখন সময়ের দাবি। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আমরা আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।”
সরিষাবাড়ী রেলওয়ে সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক কবি ও সাংবাদিক জাকারিয়া জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সোহান, রিফাতুজ্জামান রিফাত, ফরিদ সরকার, নূর সরকারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৭:৪১ ৪১ বার পঠিত