
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন এলাকায় অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও মজুদের অভিযোগে সেনাবাহিনীর অভিযানে বাদল সরকার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তার বসতবাড়ি থেকে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজ কার্তুজসহ অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুত ও সরবরাহের অভিযোগ পেয়ে আসছিল মধুখালী আর্মি ক্যাম্প। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, বাদল সরকার নামে এক ব্যক্তি নিজের তৈরি ওয়ার্কশপে নিয়মিত অবৈধ অস্ত্র তৈরি করতেন। এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করা হতো, যা ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেও একাধিকবার তাকে আটক করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। সম্প্রতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার কাছে অস্ত্র তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর এলাকায় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডুমাইন ইউনিয়নের একটি স্থানে অবস্থিত সন্দেহভাজনের বসতবাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালানোর সময় ।
বাদলের কাছ থেকে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজ কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, দুটি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, একটি প্লায়ার্স, একটি ব্লোয়ার, একটি হ্যাক স’সহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বাদল সরকারের বিরুদ্ধে পূর্বেও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র প্রস্তুত ও মজুদের অভিযোগে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং সরঞ্জামাদি আইনগত প্রক্রিয়ায় মধুখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য ক্রেতা ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেনা সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০২:১২ ৩৮ বার পঠিত