সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আমদানি বাড়লেও নাগালের বাইরে খেজুর, দাম কমছে না কেন?

প্রথম পাতা » অর্থনীতি » আমদানি বাড়লেও নাগালের বাইরে খেজুর, দাম কমছে না কেন?
সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬



আমদানি বাড়লেও নাগালের বাইরে খেজুর, দাম কমছে না কেন?

শুল্কহার কমানোর সুযোগে অতিরিক্ত আমদানির পরও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না খেজুরের দাম। চলতি মাসের ২১ দিনেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬২৪ মেট্রিক টন খেজুর খালাস হয়েছে। আর গত ৬ মাসে খালাস হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টন খেজুর। অথচ তার বিপরীতে খেজুরের দাম কমছে কেজিতে মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা।

গত ২৩ ডিসেম্বর খেজুর আমদানির শুল্কহার কমানোর আগে অনেকটা খালি পড়েছিল চট্টগ্রামের ফলমন্ডির সবগুলো আড়ত। কিন্তু এরপরেই পাল্টাতে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খেজুর খালাসের চিত্র। আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোও এখন খেজুরে ভরে উঠেছে। বাড়ছে খেজুর বেচা-কেনাও। খেজুরের আমদানি শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম জানান, শুল্ক কমার কারণে আমদানি বাড়ায় পাইকারি বাজার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কার্টনে খেজুরের দাম ২০০-৩০০ টাকা কমে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৯৩ হাজার ৫৫৬টি মেট্রিক টন খেজুর আমদানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৫ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। আবার চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩০ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন খেজুর। তার আগের অর্থ বছরের এই সময়ে আমদানি হয়েছিল মাত্র ১৪ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, শুল্ক কমানোর প্রভাব বাজারে স্পষ্টভাবে পড়েছে এবং খেজুরের দাম এখন সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। আগের তুলনায় শুল্ক কমানো হয়েছে, আর আমদানিও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। তাই খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকা উচিত। তবে বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা দরকার।

তবে শুল্ক কমানো বা আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে। নানা কারসাজির কারণে পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম এখনও ধীরে ধীরে কমছে। চট্টগ্রামের ফলমন্ডির মেসার্স এস বি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বখতিয়ার বলেন, মাশরুক খেজুর আগে বিক্রি হতো ১৮০০-১৯০০ টাকায়, এখন আমদানিকারক রেট ধরছে ২২০০ টাকা। দাবাজ খেজুরও আগে বিক্রি হতো ৩৬০০ টাকায়, এখন ৪২০০ টাকায়। তো দাম কোথায় কমলো?

বর্তমানে অভিজাত খেজুর মেডজুল ৫ কেজির প্যাকেট ৬ হাজার টাকা, আজোয়া ৪ হাজার টাকা, মরিয়ম ৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ মানের খেজুর সাবাবী ২ হাজার ৮০০ টাকা, মাশরুক ২ হাজার ২০০ টাকা সুককারী ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ডাটর্স গ্যালারির মালিক শফিউল আজম টিপু বলেন, কাস্টমের শুল্ক কমলেও দাম একটু বেশি রয়েছে। তবে প্রচুর আমদানি হওয়ায় রমজানে খেজুর সহজলভ্য হবে।

চট্টগ্রামের ফলমন্ডির মেসার্স নূরজাহান ট্রেডার্সের মালিক মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, মাশরুক খেজুর আগে ১৮০০-১৯০০ টাকায় থাকলেও এখন ২২০০ টাকা। মাব্রুম খেজুর ৪২০০-৪৫০০ টাকার পরিবর্তে এখন প্রায় ৫০০০ টাকার বেশি। কিছু আমদানিকারকরা বলছেন, সৌদি আরব বা মিশরে খেজুরের দাম বেশি থাকায় আমাদের বাজারে দামও বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রমজান মাসে ইফতারের জন্য প্রয়োজন হয় ৮০-৯০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এসব খেজুর দেশে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে অন্তত আটবার হাত বদল হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিবারই খেজুরের দাম বাড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজার মনিটরিং করা হলে খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৬:৩৫   ৭ বার পঠিত