সরিষাবাড়ীতে কৃষি জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সরিষাবাড়ীতে কৃষি জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬



সরিষাবাড়ীতে কৃষি জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে ভোগদখলীয় ১৮ বিঘা কৃষি জমি বেদখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বিন্ন্যাফৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মৃত আব্দুল মজিদ ওরফে পাগুর বংশধর খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিক গংদের দীর্ঘদিনের আবাদি জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে একই গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন তালুকদারের বংশধর হাফিজুর রহমান ও তোতা গং।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, এই বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। তৎকালীন সময়ে নাসির উদ্দিন তালুকদারের বংশধররা (বাদীপক্ষ) দাবি করেছিলেন যে, ১৯৪০ সালের একটি ভাড়া মামলার (নং ২৫২) প্রেক্ষিতে ১৯৪২ সালে নিলাম বিক্রির মাধ্যমে তারা এই জমির মালিকানা লাভ করেছেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত রায় বাদীদের পক্ষে যায়। তবে সম্প্রতি বিবাদী পক্ষ জামালপুর আদালতের ১৯৪০ সালের মূল ‘ভাড়া মামলা রেজিস্টার’-এর সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করলে দেখা যায়, বাদীদের দাখিলকৃত নিলাম বিক্রির তথ্যের কোনো অস্তিত্ব ওই রেজিস্টারে নেই। অর্থাৎ, ভাড়া মামলার নথি জালিয়াতি করে ভুয়া নিলামের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করা হয়েছিল।

জালিয়াতির এই অকাট্য প্রমাণ বিজ্ঞ আদালতের সামনে উপস্থাপিত হলে, সিনিয়র আইনজীবী জনাব নিখিল কুমার সাহার যুক্তির প্রেক্ষিতে আদালত পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। জালিয়াতির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে আদালত মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুমতি প্রদান করেছেন। মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিস্তারিত শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ।

ভুক্তভোগী খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিক গং জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধিত হেবা-বিল-এওয়াজ এবং সাফ-কাবলা দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো ক্রয় করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দখলে আছেন। আর.এস. খতিয়ানেও তাদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। অথচ বিবাদীরা আদালতের জাল নথি তৈরি করে এখন তাদের আবাদি ফসল নষ্ট করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান গং এখনো দাবি করছেন যে, তাদের পূর্বপুরুষ নাসিরুদ্দিন তালুকদার ১৯৪২ সালে নিলামেই জমিটি কিনেছিলেন এবং তারাই প্রকৃত মালিক।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া জানান, “আবাদি জমি নষ্ট ও বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে বিন্ন্যাফৈর গ্রামের এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চূড়ান্ত আইনি ফয়সালার অপেক্ষায়। জালিয়াতির প্রমাণ প্রমাণিত হলে দীর্ঘদিনের দখলদার পরিবারটি ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:৫৯   ৯৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নৈতিকতা ও আদর্শ গড়ে তোলা: সাখাওয়াত
শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে: জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুন মাহমুদ
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার
চরকাতলাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
মেলান্দহের দুরমুঠ মেলায় মাদকবিরোধী অভিযান, ৫ জনের কারাদণ্ড
বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে আইসিএবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
দুই দিনব্যাপী হজ প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ