বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬



হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ

হরমুজ প্রণালীতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রীও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খবর বিবিসির।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যা পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, তারা শুধু চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। গত বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হয়।

ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, এখন তাদের প্রণালীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের এই লেকচারার আল-জাজিরাকে বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের অর্ধেকও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম একটা সময়ে প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোকে আর পাহারা দিতে না পারায় এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

হির্স বলেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে আমরা এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে দেখছি। (হামলার) প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’

ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে হির্স বলেন, ‘গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্ডারেও প্রভাব ফেলছে।’

হির্স সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়বে। এমনটা ঘটলে অভ্যন্তরীণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।’

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৫:৩১   ৬ বার পঠিত