
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বলেছেন, যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি দক্ষ জনশক্তি মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ওপর ঢাকার গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নব নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারকে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রতিমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ, কৃষি, ক্রীড়া সহযোগিতা, জ্বালানি বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন অংশীদারিত্বসহ তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে।
প্রতিমন্ত্রী সাবেক প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মালয়েশিয়া সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের গুরুত্ব আরোপ করেন।
তারা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাত উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্প সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, মালয়েশিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজনের সুযোগ নিতে পারে এবং তরুণ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে।
উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা জোরদারে একটি যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করে।
জনশক্তি সহযোগিতার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ার বহুমুখী ভিসা সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশি যুবকদের প্রস্তুত করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষকরা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অবদান রাখছেন।
বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরদার করে প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, সিরামিক, পাটজাত পণ্য ও তৈরি পোশাক আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।
তিনি মালয়েশিয়ায় একটি যৌথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনেরও প্রস্তাব দেন, যেখানে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার ও ভাষা প্রচার করা হবে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রবি ও এডটকো রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে সমর্থন দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চান এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন, যার মধ্যে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এবং বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪১:০০ ৬ বার পঠিত