
টানা ছুটির পর ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকা আবার তার চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে নাড়ির টান ছিঁড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ফিরতি যাত্রার তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ১৬টি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে যায় এবং ১৫টি ট্রেন রাজধানীতে প্রবেশ করে। তবে স্বস্তির মাঝেও কিছুটা ছন্দপতন ঘটিয়েছে ট্রেনের বিলম্ব। রংপুর এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেস প্রায় ৩ ঘণ্টা বিলম্বে চলায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ফিরছি, মনটা খারাপ। ট্রেন কিছুটা দেরি করায় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়েছে ঠিকই, তবে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগছে।’
অন্যদিকে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে দু-একটি ট্রেন বিলম্বে চললেও আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।’
বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মঙ্গলবার ভোর থেকে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো বড় ধরনের জটলা ছাড়াই অনেকটা স্বস্তিদায়ক ছিল। মহাসড়কে অতিরিক্ত যানজট না থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পেরেছেন। রংপুর থেকে আসা বাসযাত্রী আসমা আক্তার বলেন, ‘ভেবেছিলাম রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকবে, কিন্তু খুব দ্রুত এবং আরামে ঢাকায় চলে এলাম। এখনও বড় ভিড় শুরু হয়নি, তাই যাত্রাটা আরামদায়ক ছিল।’
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ভোরের আলো ফুটতেই দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোর ভিড় বাড়তে থাকে। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসা যাত্রীদের নিরাপত্তায় টার্মিনালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
এদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আবারও তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়বে। অনেক যাত্রী এই বাড়তি ছুটি কাটিয়ে রোববার নাগাদ ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
পরিবহন শ্রমিক নেতা মো. রফিক বলেন, ‘আজ ভিড় কিছুটা কম থাকলেও কাল-পরশু থেকে যাত্রী চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’
প্রিয়জনদের ছেড়ে আসার কষ্ট আর নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার তাড়না–এই দুইয়ের মিশেলেই মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানী। অধিকাংশ মানুষই এবারের ঈদযাত্রাকে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৫:১৫ ৬ বার পঠিত