
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমি ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘অসাম্প্রদায়িক’ এই শব্দগুলোতে বিশ্বাস করিনা। এই শব্দগুলো ব্যবহার করার অর্থই হলো সমাজে কোনো বিভাজন বা সমস্যা বিদ্যমান আছে। বাংলাদেশের মহান সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। এখানে কেউ কারো চেয়ে কম বা বেশি নয়। বেগম খালেদা জিয়াও সবসময় বলতেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি।
আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বিএনপির দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশের সীমানায় যারা বসবাস করেন, তারা সবাই প্রথমে বাংলাদেশি, এরপর আমাদের যার যার ধর্ম, বর্ণ ও কৃষ্টি থাকতে পারে। এই ডাইভার্সিটি বা বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো সমাজ এগোতে পারে না। বিএনপির লক্ষ্য হলো এমন একটি সহনশীল, সংবেদনশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের সকল নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী উপাচার্যকে অনুরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্যের তালিকা বা (Catalogue) তৈরি করতে। তিনি উল্লেখ করেন , “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সেরা ফ্যাকাল্টি ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর হেলাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকব।
মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের বহিরাগত যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ। প্রতিমন্ত্রী বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লক্ষ্য হলো হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা। তিনি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং কৃষি ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে গৃহীত নানা সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আগামী পাঁচ বছরে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার ,স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর অঞ্জন কুমার চৌধুরী , শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির আহবায়ক প্রফেসর (অব:) তাপসী ঘোষ রায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অদুল-অনিতা ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ।
আয়োজিত অনুষ্ঠনে আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০১:৩৩ ১২ বার পঠিত