
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক মাদকাসক্ত যুবকের নৃশংস হামলায় আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক কবিরাজের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের টাঙ্গাইল রাজিবদিয়ার এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হামলার পর অভিযুক্ত যুবক সাইদুল ইসলাম ভুক্তভোগীর রক্ত নিজের শরীরে মেখে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল রাজিবদিয়ার গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন কবিরাজ। সকালে তিনি বালিয়া ব্রিজপাড় মোড় থেকে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একই গ্রামের মৃত বছির খানের ছেলে সাইদুল ইসলাম পেছন থেকে সাইকেল নিয়ে এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাইদুল তার ব্যাগ থেকে ধারালো দা বের করে আনোয়ারকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তিনি তা হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং অন্য তিনটি আঙুল গুরুতর জখম হয়ে ঝুলে থাকে।
”আনোয়ারের সাথে সাইদুলের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না। হঠাৎ সাইকেল থামিয়ে ব্যাগ থেকে একটি ধারালো দা বের করে সে কোপাতে শুরু করে। আমি চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে এবং সাইদুল পালিয়ে যায়।”
আহত আনোয়ারকে উদ্ধার করে প্রথমে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করেন।
অভিযুক্ত সাইদুলের মা ছাহেরা বেগম জানান, তার ছেলে মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর নিখোঁজ ছিল। এলাকায় ফেরার পর থেকেই তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইদুল তার কৃতকর্মের কারণ হিসেবে দাবি করে বলেন, “আনোয়ার কবিরাজি করে আমার সংসার নষ্ট করেছে। তাই যে হাত দিয়ে সে জাদুটোনা করত, আমি সেই হাতটিই কেটে ফেলেছি।”
সরিষাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চাঁন মিয়া জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাইদুল থানায় এসে দাবি করে সে একজনকে খুন করে এসেছে এবং তাকে গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক তাকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করে।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে আনোয়ারের বৃদ্ধ মা ও এলাকাবাসী এই জঘন্যতম অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২২:৫৯ ৩৯ বার পঠিত