
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কৃষির টেকসই উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই কংগ্রেসের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এ কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় শতাধিক কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় অতিথিদের মাঝে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবুল হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে PARTNER প্রকল্প একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা এবং আয় দুটোই বৃদ্ধি পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা অপরিহার্য। PARTNER প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের কৃষকরা এখন শুধু উৎপাদক নন, তারা একেকজন পুষ্টি সচেতন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, আলফাডাঙ্গার মাটি ও মানুষ কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও পরামর্শ পৌঁছে দিচ্ছি। PARTNER ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে নিচ্ছেন, এটাই এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ কংগ্রেসে সফল কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও পরামর্শ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষির বহুমুখী উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কংগ্রেস আলফাডাঙ্গার কৃষিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণের আগ্রহ ও নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্পৃহা তৈরি হয়েছে, যা উপজেলার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৮:৫২ ৭১ বার পঠিত