![]()
মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে শহরের কালিরবাজার এলাকায় অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমি-এর থিয়েটার হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চাষাঢ়া থেকে একটি র্যালি বের করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, “আমরা সবাই শ্রমিক, তবে এর মধ্যেও একটি বিভাজন রয়েছে—মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ। এই দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলেই বিরোধ ও অশান্তি সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নির্মাণশ্রমিকেরা দেশ-বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকে, যেখানে তাদের জীবনের ঝুঁকি থাকে। অনেক কলকারখানায় এখনো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নেই। বিশেষ করে আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, তা অনেক ক্ষেত্রে দূষিত, যা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যহানির কারণ হচ্ছে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “শ্রমিকদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শ্রমিকরা কোনো যন্ত্র নয় যে সকালে এসে যন্ত্রের মতো কাজ করবে এবং সন্ধ্যায় চলে যাবে। উন্নয়নের ধারায় তাদেরও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের উন্নয়নের অংশীদার করা না গেলে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না। তাই তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকরা যদি সুশিক্ষিত ও দক্ষ হয়ে সুস্থ শরীরে কাজ করতে পারে, তবে তাদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের অর্থনীতিও লাভবান হবে। সুতরাং সুস্থতা, দক্ষতা ও জ্ঞান—এই তিনটি বিষয় শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক আফিফা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ অন্যান্যরা।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৮:২৪ ১৪ বার পঠিত