
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপীঠের সামনেই জমে উঠেছিল মরণনেশা ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ মহিদুল ইসলাম শেখ নামে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ মে) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টগরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার মহিদুলের বয়স ৩৫ বছর। এ সময় তার পরনের লুঙ্গির ভাঁজে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার মহিদুল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের মৃত শহিদ শেখের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানী ও আলফাডাঙ্গা সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। স্কুল-কলেজপড়ুয়া উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করেই সে মাদক সরবরাহ করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে আটক করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে মাদক কারবারির গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে।
টগরবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক এক সদস্য বলেন, বাচ্চারা যেখানে জ্ঞান আহরণ করতে আসে, সেখানেই মাদক বিক্রি হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অবিলম্বে স্কুলের আশপাশে পুলিশি টহল ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। মাদক কারবারিদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কেউ এই সাহস না পায়।
আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় আলফাডাঙ্গা মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশের এই সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানাই। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রতিরোধেই মাদক নির্মূল সম্ভব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মহিদুল গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪২:০৩ ৭৬ বার পঠিত