
ঘরের মাঠে শুরুতেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। তবে তাতেও যে কোনো স্বস্তি নেই, শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখতে পারলো না অলরেডরা। প্রথমার্ধেই সমতা টানে চেলসি। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোল করতে পারেনি দুই দল। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
অ্যানফিল্ডে শনিবার (৯ মে) প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো চেলসি ও লিভারপুলকে। শুরুতে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন রায়ান খ্রাফেনবের্খ। এরপর এনজো ফের্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে চেলসি।
চেলসির বিপক্ষে লিগে এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়শূন্য রইল লিভারপুল। চলতি আসরে প্রথম দেখায় ২-১ গোলে এবং গত মৌসুমের দ্বিতীয় দেখায় ৩-১ গোলে জিতেছিল চেলসি, দুটি ম্যাচই হয়েছিল তাদের মাঠে।
প্রতিশোধের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশা জাগিয়েও তা পূরণ করতে পারল না লিভারপুল। ৩৬ ম্যাচ শেষে ১৭ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে অলরেডরা। অন্যদিকে সমসংখ্যক ম্যাচে ১৩ জয় ও ১০ ড্রয়ে ৪৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নবম অবস্থানে রয়েছে চেলসি।
ম্যাচের শুরুতেই দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ষষ্ঠ মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের নেওয়া ফ্রি-কিক চেলসির রক্ষণভাগে আটকে গেলেও বিপদ পুরোপুরি কাটাতে পারেনি ব্লুজরা। সেই সুযোগ কাজে লাগান রায়ান খ্রাফেনবের্খ। সতীর্থের পা ঘুরে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুহূর্তেই জায়গা তৈরি করেন ডাচ মিডফিল্ডার, এরপর দূরপাল্লার জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রিমিয়ার লিগে আবারও গোলের স্বাদ পেলেন রায়ান খ্রাফেনবের্খ। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বরের পর এই প্রথম লিগে জালের দেখা পেলেন ডাচ মিডফিল্ডার।
গোলের পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল। দমিনিক সোবোসলাইয়ের নিখুঁত ক্রস ছয় গজ বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় পেয়ে যান ভার্জিল ফন ডাইক। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে সুযোগ নষ্ট করেন লিভারপুল অধিনায়ক।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে চেলসি। ২৮তম মিনিটে মার্ক কুকুরেইয়ার কোনাকুনি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জিওর্জি মামারদাশভিলি। দুই মিনিট পর আরও একটি ভালো সুযোগ আসে ব্লুজদের সামনে, কিন্তু বক্সে বুক দিয়ে বল নামালেও শট নিতে ব্যর্থ হন কুকুরেইয়া।
তবে চাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরে চেলসি। ৩৫তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেজের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক জড়িয়ে যায় জালে। ডান দিক থেকে নেওয়া তার উঁচু বলটি বক্সে কাউকে স্পর্শ না করেই কয়েকবার বাউন্স খেয়ে দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে ঢুকে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে ভাসে চেলসি। দারুণ এক আক্রমণ থেকে কোল পালমার বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি, ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
শেষ দিকে ভাগ্যও সঙ্গ দেয়নি অলরেডদের। ৭৯তম মিনিটে সোবোসলাইয়ের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তার কিছুক্ষণ পর ফন ডাইকের হেড প্রতিহত হয় ক্রসবারে। এ সময় ডাচ ডিফেন্ডারের দাবি ছিল, হেড নেওয়ার আগে তাকে ফাউল করেছিলেন মোইজেস কাইসেদো, তবে রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি।
ম্যাচে হার এড়াতে পারলেও লিভারপুলের পারফরম্যান্সে যে সমর্থকেরা সন্তুষ্ট নন, তা শেষ বাঁশির পর গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়োতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, টানা ছয় ম্যাচ পর অন্তত এক পয়েন্ট তুলে নিল চেলসি। তবে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ার আশা এখনও বেশ অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০২:০১ ১২ বার পঠিত