
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফর উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যাপক পরিসরে আমাদের স্মরণ করা দরকার। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে আমরা কাউকে অনুসরণ করতে বললে, সে ধরনের ব্যক্তিত্ব হলেন জাফর উল্লাহ চৌধুরী। তার জীবন এবং কর্ম আমাদের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম স্যার বলেছিলেন ‘জাফর উল্লাহ চৌধুরী শুধু দেহের চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি সমাজেরও চিকিৎসক ছিলেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফর উল্লাহ পরিষদ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, জাফর উল্লাহ চৌধুরীর প্রতি আমাদের ঋণ আছে, সেই জায়গা থেকে উনাকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইতিহাস আমরা কেন চর্চা করি, ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যই আমাদের ইতিহাস চর্চা করতে হয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হয়, ইতিহাস আমাদেরকে সেই অনুপ্রেরণা দেয়। জাফর উল্লাহ চৌধুরী সেই অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনুস সাহেব যে সুযোগটা পেয়েছিলেন বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য, সেটা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। জাফর উল্লাহ চৌধুরী বেঁচে থাকলে তিনি পরামর্শ দিতেন যাতে সফলতা অর্জন হয়।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, জাফর উল্লাহ চৌধুরী রাজনীতি করতেন না, কিন্তু পরিবর্তনের জন্য চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে তিনি স্বল্প সামর্থ্যের মধ্যেও আমাদের সহযোগিতা করতেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের সময়ে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা শত শত মামলায় পর্যদুস্ত ছিল, তখন জাফর উল্লাহ চৌধুরী আমাকে, জোনায়েদ সাকি, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম রবসহ বিভিন্নজনকে গণস্বাস্থ্যে দাওয়াত করে ডেকে নিতেন। তিনি আমাদেরকে দিয়ে একটা বিকল্প প্লাটফর্ম তৈরির দিকে নিয়ে গেলেন।
তিনি বললেন, বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা-মালায় জর্জরিত ছিল। তাই আন্দোলনকে সফল করতে তিনি বিএনপির পাশাপাশি প্যারালাল প্লাটফর্মের কথা বলতেন। তার সহযোগিতায় ২০২২ সালে আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করি। এরপর যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। তখন আমরা সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একদফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই। শেষ পর্যন্ত আমরা এই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত নিয়ে আসতে পেরেছি।
স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক আলেয়া চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, আবদুল্লাহ আল নোমান স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. মনিরুল হক প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৫:১৯ ১০ বার পঠিত