
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা হবে, যাতে অভিভাবকরা আগ্রহ নিয়ে তাদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন।
বান্দরবানের রেইচা পিটিআই ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে প্রাথমিক শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ সোমবার এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। পিটিআইগুলোকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষক ‘আর্লি লার্নিং স্পেশালিস্ট’ হিসেবে গড়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেন একজন দক্ষ আর্লি লার্নিং এক্সপার্ট হিসেবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার শিশুদের কিন্ডারগার্টেন বা মাদ্রাসায় পাঠাতে শুরু করেছে। তবে সরকার এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ববি হাজ্জাজ বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সেখানে প্রয়োজনীয় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। তবে সারাদেশে যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি শুধু পার্বত্য তিন জেলায় নয়, সারাদেশেই একটি সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে এটিও ও টিওদের কার্যক্রম মূল্যায়নে কেপিআই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর আইপিএসএমএস ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে কোন শিক্ষক কখন শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন, কতক্ষণ পাঠদান করলেন এবং কখন বের হলেন-এসব তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে ভবিষ্যতে প্রক্সি শিক্ষক বা প্রক্সি প্রধান শিক্ষকের কোনো সুযোগ থাকবে না।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি এবং পিটিআই বান্দরবানের সুপারিনটেনডেন্ট মো. ফজলুল হক ভুঞাসহ প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫১:২২ ১০ বার পঠিত