বিয়ের চাপ দেয়ায় মা-মেয়েকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিক দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » বিয়ের চাপ দেয়ায় মা-মেয়েকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিক দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬



বিয়ের চাপ দেয়ায় মা-মেয়েকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিক দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুরে গৃহবধূ জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশু সন্তান সামিয়া আক্তারকে (৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত উজ্জল খানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জল তাদের হত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হলরুলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার উজ্জল খান রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও একই উপজেলার বকারটিলা গ্রামের উজ্জল খান ঢাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় গৃহবধূ জাহানারা বেগম উজ্জল খানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে দুজনই গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় চলে আসেন। কিছু দিন ধরে জাহানারা বেগম বিয়ে করার জন্য উজ্জলকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

ফাতেমা ইসলাম জানান, গত ৪ জাহানারা এক আত্মীয়র বাড়িতে অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে উজ্জলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে জাহানারাকে জামতলা এলাকায় আসতে বলেন। সেখান থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার নির্জন একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যান তাদের। সেখানে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা বলার পরও উজ্জল বিয়ে করতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে উজ্জল ক্ষিপ্ত হয়ে জাহানারার বুকে সজোরে লাথি মারেন। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এসময় ঘুমিয়ে থাকা শিশু সন্তান সামিয়া জেগে উঠে চিৎকার দিলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন উজ্জল। এরপর পুকুর পাড়ে গর্ত করে মরদেহ দুটি মাটিতে পুঁতে রেখে পালিয়ে যান।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, জাহানারা বেগম ও তার শিশু সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় স্বামী আমজাদ শেখ গোয়ালন্দ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর ১৪ মে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এরপর জাহানারা বেগমের বাবা লালন মোল্লা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িতকে গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। জাহানারা বেগমের মোবাইলের কল লিস্ট ও স্বামীর দেয়া তথ্যানুসারে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা থেকে উজ্জলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। এ সময় জাহানারার ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাপ, একটি স্যান্ডেল ও শিশু সামিয়ার ব্যবহৃত একটি জর্জেট ফ্রক, একটি এমিটিশনের পুথিযুক্ত মালা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার উজ্জল খানকে আজর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নিহত জাহানারা বেগমের বাবা লালন মোল্লা। তিনি হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, আমার মেয়ের দোষ থাকতে পারে, নাতিরতো কোনো দোষ ছিল না। ওরে কেন এভাবে মেরে ফেলল। উজ্জ্বলরে ফাঁসিতে ঝুলানো দেখতে চাই।
এ সময় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান, পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবুল বাশার মোল্লাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২১:৫১   ১৬৯ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


আল কোরআন ও আল হাদিস
পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের
মজুরি বোর্ড যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে : মাহদী আমিন
মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করবে সংসদীয় ককাস
ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে - মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
বিএনপির গুণ্ডারা শ্রমিক পেটাতে হকিস্টিক নিয়ে রাস্তায় নেমেছে: নাহিদ
খাদ্য অপচয় রোধে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে
অবকাঠামো ও বিনিয়োগে সিআরসিসির সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
এ বছর সারের আমদানি বাড়ানো হবে - কৃষিমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ