
দেশে চাহিদার চেয়ে বর্তমানে প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। আমরা এই খাতে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী।’
আজ বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার পশু রয়েছে। যেখানে চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ অথবা ২ লাখের মতো।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে মাংস রপ্তানিতেও আমরা অনেক এগিয়ে যাব। ইতোমধ্যেই ‘বেঙ্গল মিট’ তাদের প্রসেসিং সেন্টারের মাধ্যমে গরুর মাংস রপ্তানি শুরু করেছে।’
সেমিনারে খামারিদের কল্যাণে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল থেকে যে বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ উদ্বোধন করা হয়েছে তার আওতায় এখন থেকে কৃষকদের পাশাপাশি খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর ফলে কৃষি খাতের মতো খামারিরাও সব ধরনের ঋণ সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা পাবেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিএনপি যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে উন্নয়নে কাজ করেছে। বর্তমান সরকার মন্ত্রী পরিষদের প্রথম বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিল।
বগুড়াকে জাতীয়তাবাদী শক্তির একটি আবেগের জায়গা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি এই বগুড়া। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, যিনি স্বাধীনতার মহান ঘোষক। এই মাটির সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই এলাকা থেকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন, নির্বাচন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
নারী উন্নয়ন ও বিপ্লবের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী টিএমএসএস-এর কর্ণধার ড. হোসনে আরা বেগমের সফলতার প্রশংসা করে বলেন, ওনারা প্রাণিসম্পদ খাতকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। একই সঙ্গে আফসানা নীরা নামের আরেকজন নারী উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের হাত ধরে সিরাজগঞ্জের চেয়ে বগুড়া এখন কোনো অংশে কম নয়, সামনে হয়ত বগুড়া দেশের এক নাম্বারে চলে যাবে। দেশ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে তিনি খামারিদের সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ।
সেমিনার শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বগুড়া সদরের জয়পুর পাড়ায় একটি আধুনিক কসাইখানা এবং পরবর্তীতে নিশিন্দারার কারবালা এলাকায় নবনির্মিত ‘বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ ভবন’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৪:১৮ ৭ বার পঠিত