
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপের মধ্যেও বড় ধরনের শিডিঊল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) নিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রায় রেল পরিচালনা করা হচ্ছে।
রবিবার (২৪ মে) কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনের যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা থাকে। ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনে যাত্রার আলাদা গুরুত্ব আছে। কিন্তু যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে ঢাকা হতে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়; ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ঈদযাত্রার সময়কালে প্রায় লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেনে ভ্রমণের চাহিদা থাকে।
কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমি কোন ট্রেনে উঠব সেটা আগে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সাথে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন; এছাড়া ট্রেন ও প্লাটফর্মের পরিবেশ আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে; যদিও যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরেও ২৫ শতাংশ টিকিট দিতে হয়েছে।
সকালে কয়েকটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি ঢাকাতে এ’কারণে দেরীতে এসেছে। ফলশ্রুতিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এই ঘটনায় পরদিনের শিডিউলে প্রভাব পড়বে কীনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করছি আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। গতকাল একটি ট্রেনের অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে অল্প কিছু ট্রেনের যেটুকু যাত্রা বিলম্ব হয়েছিল, সেটাও আমরা গতকাল সকালের মধ্যেই দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এধরণের উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের জন্য স্পেয়ার লোকোমোটিভ ও অতিরিক্ত সতর্কতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।
রেলমন্ত্রী দাবি করেন, রেলের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। যাত্রীরাও বলেছেন, আগে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল; বর্তমানে রেলসেবা আগের তুলনায় উন্নত করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে রেলের টিকিটিং সিস্টেম চালু থাকায় টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় বিভিন্ন রুটে নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল আছে। অচিরেই আরও এক-দুটি যুক্ত করা হবে এবং ৮৫ থেকে ৮৬টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ঈদযাত্রায় যুক্ত করা গেলে শিডিউল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং যাত্রীসাধারণ স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৪:৫৪ ৫ বার পঠিত