ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা-মা, তার আগেই গাছ পড়ে মারা গেল শিশুসন্তান

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা-মা, তার আগেই গাছ পড়ে মারা গেল শিশুসন্তান
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬



ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা-মা, তার আগেই গাছ পড়ে মারা গেল শিশুসন্তান

বাবা-মা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ করতে বাড়ি ফিরবেন— এই অপেক্ষায় ছিল ছোট্ট মো. ফয়েজ (১১)। ছেলের জন্য নতুন পোশাকও কিনেছিলেন তারা। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ভোররাতের ঝড়ে গাছচাপায় প্রাণ হারায় তাদের আদরের সন্তান।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ফয়েজ (১১) ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে এবং গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ার সময় ফয়েজ তার দাদী মমিনা খাতুনের সঙ্গে চাচার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ফয়েজের। তবে ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান দাদী মমিনা খাতুন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজের বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালান। মা-বাবা সেখানে থাকলেও ছেলের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাদীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। ছেলের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার স্বপ্ন ছিল বাবা-মায়ের। কিন্তু তার আগেই পৌঁছে যায় সন্তানের মৃত্যুর খবর।

নিহতের দাদী মমিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

রাতে আমার পাশে ঘুমাইছিল ফয়েজ। ভোরে ফজরের আজান আর তুফানের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। আমি ওরে উঠতে বলছিলাম। তখন সে কইছিল, ‘আমি একটু পরে উঠতেছি।’ এরপর আমি দরজা খুলে বাইরের দিকে তাকাইতেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বড় গাছ ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছটা সরাসরি আমার নাতির গায়ের ওপর পড়ে। আমার চোখের সামনেই সব শেষ হইয়া গেল। আমার নাতিডারে আর বাঁচাইতে পারলাম না।

বাবা আবু তাহের বলেন,

ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছিলাম। বিকালে বাড়ি আসার কথা ছিল। আল্লাহ আমার সব শেষ কইরা দিলো।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টরকীকান্দা গ্রামের পরিবেশ।

প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ফয়েজ সবার প্রিয় ছিল। তার অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। যতটুকু জেনেছি পরিবারটি অসহায়। সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।”

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৪:৩২   ৭ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

চট্টগ্রাম’র আরও খবর


ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা-মা, তার আগেই গাছ পড়ে মারা গেল শিশুসন্তান
কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক খামারিদের বছরের বড় আয়ের উৎস : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
পেকুয়ায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল গৃহবধূর
জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলির ঘটনায় ২ মামলা
চামড়া সংরক্ষণে ২০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে : কৃষিমন্ত্রী
জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবে না: পুলিশ সুপার
দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সীমান্তে ২০ লাখ ভারতীয় রুপিসহ নারী আটক
চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান থেকে ২৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ