
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ছুরিকাঘাত ও গরুর লাথিতে ইমামসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের বেশিরভাগই কাটাছেঁড়াজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন।
সকাল থেকে বৃষ্টি থাকার কারণে মাঠ ও মাটি ভেজা এবং পিচ্ছিল ছিল, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভার মোশারফগঞ্জ এলাকার মো. সিদ্দীক হোসেন জানান, সকালে বৃষ্টির কারণে মাটি ভেজা ছিল। কোরবানির গরুকে প্রস্তুত করার সময় হঠাৎ দড়ি ছিঁড়ে গরুটি দাঁড়িয়ে যায় এবং তার ওপর চড়াও হয়। গরুর গুঁতায় সিদ্দীক হোসেনের ডান হাতের মাঝের আঙুলের হাড় ভেঙে যায়।
সদর ইউনিয়নের কাঁচিহারা এলাকার কসাই কুব্বাত জানান, কোরবানির গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত ধারালো ছুরির আঘাতে তার বাম হাতের কব্জির অংশ কেটে যায়।
বেলগাছা ইউনিয়নের কাছিমা এলাকার ওয়াহেদ জানান, বৃষ্টির পর মসজিদের সামনে বালি ছিটিয়ে মাটি শক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পশু কোরবানির প্রস্তুতির সময় গরুটি হঠাৎ মাথা ঝাঁকালে ইমামের হাতে থাকা ধারালো ছুরি তার হাতের কব্জিতে লাগে। এতে তার দুটি নখ কেটে যায়।
সাপধরী ইউনিয়নের শিশুয়া এলাকায় কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হন ইমাম মাওলানা ইসমাইল হোসেন। পশু জবাইয়ের সময় তিনি গরুর পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় গরুটি তাকে লাথি মারে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং নিজের হাতে থাকা ছুরির আঘাতেই তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর কেটে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদীন জানান, “দুপুরের ১২টা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোরবানির পশু সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
আহতদের সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আঘাত গুরুতর না হওয়ায় কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৯:৪৫ ৯ বার পঠিত