সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে ৮০ লাখ টাকার স্বপ্ন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে ৮০ লাখ টাকার স্বপ্ন
সোমবার, ১ জুন ২০২৬



সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে ৮০ লাখ টাকার স্বপ্ন

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল বাগান। সফল ফলন হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, সালথায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন ফকির গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান। সেখানে আশাতীত সফলতা পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের উদ্যোগ নেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর সাহস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা করি। বর্তমানে ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান করেছি। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে। আমার উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন।”

সোমবার (১ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের নানা দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো আনারসের বাণিজ্যিক চাষ দেখিনি। মিলন ভাইয়ের বাগান দেখে ভালো লাগছে। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাববো।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগ সফল হলে আরও অনেক কৃষক লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসবেন।”

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলন ফকিরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সৃষ্টি হবে আয়ের নতুন ক্ষেত্র এবং কৃষিতে আসবে বৈচিত্র্য।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৬:৫৩   ৪ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
নবীগঞ্জ সেতু ও পানি প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ
জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঞ্জাবি বিতরণ করলেন স্বেচ্ছাসেবক দল
ঈদ শেষে সরকারি অফিসগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য
শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমেই আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি: দুলু
‘জিয়াউর রহমান শুধু প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার রাখাল রাজা’
ইসরাইলের আয়রন ডোম ধ্বংস করল হিজবুল্লাহ
প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনায় ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ এসেছে : মাহদী আমিন
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ