
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ মো. আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) গণনায় ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা ও আধুনিকীকরণের জন্য দুটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা সরকারের গণতান্ত্রিক ও মানবিক দায়িত্ব।’
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান জাতীয় অর্থনৈতিক সূচকগুলো তৈরি ও প্রকাশের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি জনগণের আস্থা জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রণয়ন ও প্রকাশে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কমিটিগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক পদ্ধতির সুপারিশ করবে। যা নীতি নির্ধারণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যবহৃত প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
তিনি আরও জানান, একটি কমিটি মূল্যস্ফীতির প্রধান পরিমাপক সিপিআই গণনার পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে। অন্য কমিটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত গৌণ তথ্যের মান ও নির্ভরযোগ্যতাসহ জিডিপি নিরূপণ পদ্ধতি পরীক্ষা করবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী পরিসংখ্যানের সামঞ্জস্যহীনতা বা অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করতে এবং সরকারি তথ্যের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার অতীতের পরিসংখ্যানগত তথ্যগুলোও পুনরায় খতিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, ‘কোথায় কোথায় তথ্যের বিকৃতি ঘটেছে আমরা জানতে চাই এবং এটি নিশ্চিত করতে চাই, যেন ভবিষ্যতের পরিসংখ্যানগুলো মাঠপর্যায়ের প্রকৃত বাস্তবতাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে।’
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিবিএস কর্তৃক নিয়মিত প্রস্তুত ও প্রকাশিত চারটি প্রধান অর্থনৈতিক সূচক-সিপিআই, মূল্যস্ফীতি, মজুরি হারের সূচক (ডব্লিউআরআই) এবং জিডিপি নিয়ে আলোচনা করেন।
অংশগ্রহণকারীরা এসব সূচক প্রণয়নের বিদ্যমান পদ্ধতি পর্যালোচনা করেন এবং পরিসংখ্যান প্রতিবেদনের মান, সামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে তা মূল্যায়নের জন্য নির্ভুল মূল্যস্ফীতি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আধুনিক পরিসংখ্যান চর্চা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবহার বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করে অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যাতে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।
আলোচনায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বিবিএস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৬:০৯ ৫ বার পঠিত