ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত, বিক্রির টাকায় উঠছেনা খরচ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত, বিক্রির টাকায় উঠছেনা খরচ
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬



ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত, বিক্রির টাকায় উঠছেনা খরচ

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।

পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়।
এ জেলায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।
বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে।
এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।
অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল শস্য, তাই সরকার যদি আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। কৃষকের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন বলেন, ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৯:৩৯   ১০১ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


আল কোরআন ও আল হাদিস
বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ‘দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ দেখাচ্ছে: ইরান
অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১০
শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পরিবেশমন্ত্রীর সাথে এডিবি’র ভাইস প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
দ্বিতীয় বিয়ে করায় হুমকির মুখে গৃহবধূ ও স্বামী, গ্রাম ছেড়ে পলাতক দম্পতি
আলফাডাঙ্গায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ, বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র : তথ্যমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ