
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
সংঘর্ষের জেরে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মানিকদাহ ইউনিয়নের ৪ গ্রামের বাসিন্দাদের বিরোধের জেরে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ বহু গ্রামবাসী রয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মূলত মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষের পর পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৭:৩১ ৯৪ বার পঠিত