![]()
মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গলাচিপা রুপার বাড়ি এলাকায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
শনিবার ৪ জুলাই বিকেলে প্রতিবেশী নিরাপত্তা কমিটি প্রনিক-এর উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে একতা, সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের আহ্বান জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন কবীর রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, গলাচিপাবাসীর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। মাদক নির্মূলে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় একটি খেলার মাঠ, একটি লাইব্রেরি এবং খাসজমি থাকলে তা জনকল্যাণমূলক কাজে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। গলাচিপাসহ পুরো নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। একের পর এক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গলাচিপায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সুপারিশ করা হবে বলেও জানান।
৬২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, সীমান্তের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এলাকাতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
র্যাবের প্রতিনিধি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, এলাকায় একাধিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁস ও পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক সময় অভিযান ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় বাসিন্দারা নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান। যুব উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধি জানান, মাদকমুক্ত ব্যক্তিদের হাঁস-মুরগি পালন, লেয়ার ফার্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
সভায় রুপার বাড়ি এলাকা ও তোলারাম কলেজের পেছনের পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করে সেখানে থানা বা জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এছাড়া প্রতিবেশী নিরাপত্তা কমিটির সমন্বয়ক বিপুল, আলমগীর আজিজ ইমন, কামাল মল্লিক, সোহেল মল্লিক, মুকুল, মাহফুজ, মোক্তার, রুমি সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:০৬ ৮ বার পঠিত