পোর্ট কাস্টম মিলে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » পোর্ট কাস্টম মিলে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে: অর্থমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬



পোর্ট কাস্টম মিলে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা একসাথে বসেছি। প্রায় অনেক সমাধান হয়ে গেছে।

এগুলো কার্যকর হয়ে যাবে। পোর্ট কাস্টম মিলে আগামী দিনে আমি মনে করে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে।

যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। আগামী ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি সেটির পথ সুগম হবে।

কাস্টম এবং পোর্টের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি হতে যাচ্ছে। উনারা যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলত বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে অর্থনীতি যাতে টেকঅফ করতে পারে সেই জায়গায় যাওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙা করা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি বাড়ানো, আমাদের শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধাগ্রস্ত না হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ জন্য আমরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসাকে সহজ করার জন্য, বিগত দিনে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা, বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে আমাদের বাজেটে ডিরেগুলেশনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশন আরও কার্যকর করার জন্য, এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে আজকের সভা।

তিনি বলেন, এ সভাতে যেটি আমরা করেছি, কাস্টমসের ব্যাপারে, পোর্টের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম যাতে নিবিড়ভাবে, বাধা ছাড়া চলতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, সাধারণ মানুষের যে দ্রব্যমূল্য উচ্চ এর অনেকটা কারণ পোর্টে অতিরিক্ত খরচ হয়, কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বার বার উঠে এসেছে, আজ এনবিআরের চেয়ার‌ম্যান সাহেব এসেছেন, বন্দরের চেয়ারম্যান সাহেব আছেন। আমরা জয়েন্টলি সবাইকে নিয়ে বসে কোথায় কোথায় সমস্যাগুলো আছে, প্রত্যেকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছি, প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেছি। কত সময়ের মধ্যে কোন কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে সেটারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে আগামী দিনে পোর্ট কাস্টম একসাথে কাজ করতে পারে। উনাদের একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন আগে ছিল। আমরা প্রথমবারের মতো জয়েন্ট পোর্ট কাস্টম যাতে কাজ করতে পারে, পোর্টের সমস্যা আছে, কাস্টমসের সমস্যা আছে, উনারা একসাথে বসে সমাধান করতে পারে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো খুব সহসা কার্যকর হবে আমি বিশ্বাস করি। যার ফলে চট্টগ্রাম পোর্ট ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, অনেক বেশি কার্যকর হবে।

কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। এর ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ওপর বিদেশিদের যারা বিনিয়োগকারী আছে, যারা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে তাদের আস্থা যাতে বাড়ে। সাথে সাথে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের খরচ কমতে থাকবে, দক্ষতা বাড়তে থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা যে কর্মসংস্থানের কথা বলছি তা বাড়তে থাকবে। দেশের অর্থনীতি ভালো হতে থাকবে। মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। সাপ্লাইচেন যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন খরচ বেড়ে যায়, সেটি আলটিমেটলি দেশের জনগণকে দিতে হয়। পোর্টে খরচ বাড়লে সেটি জনগণকে দিতে হয়, কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লে জনগণকে দিতে হয়। এ খরচগুলো যাতে আগামী দিনে জনগণের ওপর না চাপাতে হয়, ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপাতে হয়। এমনকি আমাদের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় না থাকলে আগামী দিনের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় আমরা টিকে থাকতে পারব না। এ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আজকের বিষয়টি।

এনসিটি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই পোর্ট চালাক, তাদেরকে এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

বন্ধ কারখানা চালু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে অর্থনীতিকে সরলীকরণ করা হয়েছে, ডিরেগুলেশন করা হয়েছে, কর কমানো হয়েছে যাতে শিল্পগুলো উঠে আসতে পারে। অনেক উদ্যোগ এ সরকার নিয়েছে। অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কে কার সাথে পরিচিত, এ সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না, সুযোগ নেই। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, পাওয়ারফুল লোক হোক সুযোগ নেই।

এডিবির বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। কারণ এখানে পোর্ট আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, অন্যান্য উন্নয়নগুলো গড়ে উঠবে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। স্টেক হোল্ডারদের ডাকা হয়েছে, সবার কথা শুনবেন। এ অঞ্চলে এডিবির বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩২:৩১   ২ বার পঠিত  




চট্টগ্রাম’র আরও খবর


পোর্ট কাস্টম মিলে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে: অর্থমন্ত্রী
চাঁদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩
কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ৬ লাখ ইয়াবা জব্দ
কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন
আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ
টেকনাফের সংরক্ষিত বনে ৪০ হেক্টরের নতুন বাগানে চারা রোপণ করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ