
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডিতে ইলিশ মাছের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে আকর্ষণীয় মূল্যে মাছ বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পর মাছ সরবরাহ না করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রকৃত ও প্রতিষ্ঠিত ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীদের ছবি, ভিডিও এবং ব্যবসায়িক পরিচয় অসাধুভাবে ব্যবহার করেও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুনামও ক্ষুণ্ণ করছে।
এই প্রবণতা প্রতিরোধে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় এবং মৎস্য অফিস, চাঁদপুরের যৌথ উদ্যোগে “ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি ও অনলাইনে প্রতারণা রোধে আমাদের করণীয়” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনলাইন বিক্রেতাদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই এবং ভোক্তাসাধারণকে সচেতন করে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যেমন সুরক্ষিত থাকেন, তেমনি ক্রেতারাও প্রতারণার শিকার না হন।
এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইন ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে বিক্রেতাদের পরিচয় ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাইযোগ্য থাকবে। পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ — নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকুন:
- ইলিশ মাছ কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয়, ঠিকানা ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করুন;
- বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম মূল্যের প্রস্তাবে সতর্ক থাকুন — অতি লোভনীয় অফারই প্রায়ক্ষেত্রে প্রতারণার ইঙ্গিত দেয়;
- বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই না করে কোনো অগ্রিম অর্থ প্রদান করবেন না;
- সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে মাছ ক্রয় করুন, যাতে পণ্য হাতে পাওয়ার পরই মূল্য পরিশোধ করা যায়;
- ইলিশ মাছ গ্রহণের সময় ওজন ও মান সরেজমিনে যাচাই করে তবেই মূল্য পরিশোধ করুন;
- প্রতারণার শিকার হলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ জানান।
প্রকৃত ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান:
- অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করুন;
- ইলিশ মাছের ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও নিশ্চিত করুন;
- ক্রেতাকে সঠিক ওজন ও মানসম্পন্ন মাছ সরবরাহ নিশ্চিত করুন;
- প্রতিটি বিক্রয়ের ভাউচার বা রসিদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন, যা প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে;
- অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচয়, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য স্পষ্ট ও প্রকাশ্যভাবে উপস্থাপন করুন;
- অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছবি, ভিডিও বা ব্যবসায়িক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৪:০০ ৩১ বার পঠিত