
সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু গবেষণা এবং দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের মিনিস্ট্রি অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস-এর অধীন ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এফআইও) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নবায়ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চীনের শাংদাওয়ে অনুষ্ঠিত ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া মেরিন কো-অপারেশন ফোরামে’ অংশ নিয়ে ঢাবির প্রতিনিধিদল এ চুক্তি নবায়ন করে।
এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস, তথ্যপ্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
ফোরামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এফআইও-এর মধ্যে মূল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া এফআইও-এর মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড নিউমেরিক্যাল মডেলিং ল্যাবরেটরি এবং ঢাবির ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্সের (আইসিওজি) মধ্যে পৃথক আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ঢাবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন আইসিওজির পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।
চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এটি নতুন কোনো শুরু নয়, বরং একটি ধারাবাহিকতা। এফআইও-এর সঙ্গে সহযোগিতা ইতোমধ্যে বাস্তব ফলাফল বয়ে এনেছে। যৌথ জরিপের আওতায় রাবনাবাদ চ্যানেল ও মেঘনা নদীর মোহনায় দুটি জিএনএসএস জিং-ওয়েই বয়া স্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট-সংযুক্ত উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে। বঙ্গোপসাগরের গতিবিধি অধ্যয়নের জন্য এফআইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মডেল ডেটাও বিনিময় করেছে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে উপাচার্য চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় ও অফশোর এলাকায় অতিরিক্ত বয়া স্থাপনের মাধ্যমে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সরঞ্জাম নিয়ে সহযোগিতা জোরদার, নিয়মিত যৌথ জরিপ ও ডেটা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘চীন-বাংলাদেশ জয়েন্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠা।
অনুষ্ঠানে ঢাবির আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগাম সতর্কীকরণ মানুষের জীবন বাঁচায়, তবে তা সুদৃঢ় বিজ্ঞান ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রয়োজন।
এ সময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার ভবিষ্যতে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিওজির পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী জানান, যৌথ জরিপের আওতায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের জিএনএসএস বয়া সিস্টেম পরিচালনা এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের ‘ওশান ডিকেড’-এর আওতায় পরিচালিত পূর্বাভাস সিস্টেম প্রোগ্রামেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এফআইও-এর মধ্যে প্রথমবার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ভৌত ও রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও জলবায়ু বিষয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়। নবায়িত চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১০:৪৩ ৭১ বার পঠিত